দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পাকিস্তান ইস্যুতে ইউটার্ন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দিন-কে-দিন আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

অন্যদিকে দিল্লিকে ‘খোঁচা’ দেওয়ার কোনো সুযোগই যেন ছাড়তে চাইছেন না ট্রাম্প।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ভারতকে দূরে ঠেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছেন।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফার মেয়াদে এই পাকিস্তান সম্বন্ধেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘এরা আমাদের মিথ্যে আর ধোঁকা ছাড়া কিছুই দেয়নি। ’ কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে সেই অবস্থান থেকে ‘ইউ টার্ন’ করেছেন ট্রাম্প।
বুধবার (৩০ জুলাই) ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক এবং তার ওপর কথিত ‘রাশিয়া পেনাল্টি’ হুকুম জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাট এক জ্বালানি সমঝোতার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের ‘বিপুল খনিজ তেলের রিজার্ভ’ সদ্ব্যবহার করতে আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতকে খোঁচা মেরে লেখেন, ‘কে জানে, একদিন হয়তো দেখা যাবে এই পাকিস্তান ভারতেও তেল বিক্রি করছে!’
বুধবারই ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের বিপুল তেল সম্পদ যৌথভাবে বিকশিত করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই দেশ এবং কোন মার্কিন কোম্পানি এই পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেবে, সেটাও এখন বাছাই করার কাজ চলছে।
জ্বালানি খাতের এই সমঝোতা সাম্প্রতিক পাক-মার্কিন সম্পর্কের ডায়নামিক্সে সবশেষ সংযোজন, যদিও পাকিস্তানে এই তেলের রিজার্ভ ঠিক কোথায় সেটা ট্রাম্প কিছু ভেঙে বলেননি।
ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা অবশ্য এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি দেখে বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে কোনো ভুল নেই।
এই জ্বালানি সমঝোতার ঘোষণাও এমন একটা সময়ে এলো, যখন পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে।


